সিরাজগঞ্জ

এনডিপি সমন্বিত কৃষি ইউনিটের উদ্যোগে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উদযাপন

নিরাপদ খাদ্য, সমৃদ্ধ জাতি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চাবিকাঠি। প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে ২০২৩ সালে পালিত হয় জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। এনডিপি সমন্বিত কৃষি ইউনিট প্রতিপাদ্যর  উপর বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহন করেন ইউনিটের ফোকাল পার্সন ও আলোচনা সভার সভাপতি এনডিপির পরিচালক (সিএসপি) মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। বাবলু কুমার সুত্রধর, উপ পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জ, আনোয়ার হোসেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সিরাজগঞ্জ সদর। পাঠশালা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিনিধি। র‌্যালি এবং আলেচনা সভায় আরও অংশগ্রহণ করেন এনডিপি বিভিন্ন প্রোগ্রামের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পাঠশালা স্কুল অ্যান্ড কলেজের  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপপরিচালক বলেন বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে ঠিকই কিন্ত নিরাপদ খাদ্য জোগান দেওয়া সম্ভবপর হচ্ছেনা। নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির জন্য উৎপাদন পর্যায় থেকে শুরু করে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ যথাযথ অনুসরণ করতে হবে। এজন্য নিরাপদ খাদ্যের বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে পালন করা দরকার। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশের জনগনকে এই বিষয়ে সচেতন এবং নিরাপদ খাদ্য আইন নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন। যেসকল সবজিতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা হয়না সেসকল সবজি বেশি পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে সরকারি, বেসরকারি খাতসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধান অতিথি এনডিপি সমন্বিত কৃষি ইউি নটকে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উদযাপনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন অনিরাপদ খাদ্য গ্রহনের ফলে মানবজীবনে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক মানুষের হাতে টাকা আছে কিন্ত নিরাপদ খাদ্যের গ্যারান্টি পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি বলেন সুলভ মূল্যে নিরাপদ খাদ্য মানুষের অন্যতম অধিকার। কিন্ত দেশের মানুষ এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।এজন্য খাদ্য উৎপাদন  এবং ভোক্তার খাদ্য গ্রহনের সচেতন হতে হবে। জাতীয় দিবসকে বেসরকারি সংস্থা এনডিপি যে আড়ম্বরভাবে পালন করেছে এজন্য তার দপ্তর থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

পাঠশালা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আলোচনা সভায় বলেন জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসের র‌্যালি ও আলোচনা সভায় সুযোগদানের জন্য এনডিপিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। কারন এর  মাধ্যমে তার স্কুলের শিক্ষার্থীরা অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়ে জানার সুযোগ হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে মোসলেম উদ্দিন বলেন অনিরাপদ খাদ্য গ্রহনের ফলে শিশুর বিকাশে এবং বুদ্দিমত্তায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ভোক্তার অধিকার নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি। কিন্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বিভিন্ন পর্যায়ে ঝুঁকি রয়েছে। যেমন উৎপাদন পর্যায়ে ঝুঁকি, প্রক্রিয়াজাত ও প্রস্ততকরণ পর্যায়ে ঝুঁকি। উৎপাদন থেকে শুরু করে খাবার টেবিলে আসা পর্যন্ত খাদ্য নানা পর্যায়ে দূষিত হতে পারে যার মূল কারন অসচেতনতা ও অনৈতিকতা। নিরাপদ বা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা প্রস্ততকরণ, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ অনুসরণ করার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। ইউনিটের ফোকাল পার্সন ও সভাপতির বক্তব্যে আরও বলেন বিভিন্ন মুখরোচক খাবার ও ফলমূল আকর্ষনীয় করে ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য ক্ষতিকর কার্বাইড, ইন্ডাসট্রিয়াল রঙ, ফরমালিন, প্যারাথিয়ন ব্যবহার করা হয়। এজন্য উপস্থিত ছাত্র- ছাত্রীদের বিভিন্ন মুখরোচক খাবার পরিহার করে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দুধ, ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন। নিরাপদ খাদ্য বিভিন্ন পর্যায়ে অনিরাপদ হতে পারে। যেমন পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা না রাখা, সঠিক তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে খাবার রান্না না করা, নিরাপদ তাপমাত্রায় খাদ্য সংরক্ষণ না করা এবং নিরাপদ পানি ও খাদ্য উপকরণ ব্যবহার না করা। সরকারি বেসরকারি দপ্তর থেকে আগত আমনন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতি তার বক্তব্য শেষ করেন। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসের র‌্যালী সদর থানার মোড় থেকে শহর প্রদক্ষিণ করে এনডিপি মাছুমপুর শাখার কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভায় অংশগ্রহন করে।

পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ৬জন বিজয়ী শিক্ষার্থীরকে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button