জাতীয়তাড়াশসদরসিরাজগঞ্জ

চলনবিলে রসুন চাষে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণীরা

প্রতিদিন প্রতিবেদক: চলনবিল এলাকার মাঠ ঘুড়ে দেখা যায় কৃষাণ কৃষাণীরা রসুনের জমি পরিচর্যার কাজে তার ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ঘন কুয়াশার মধ্যেও তারা জমিতে কাজ করছে এবং তাদের সকাল দুপুরের খাবারও খাচ্ছে জমিতে। কৃষক আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩০-৩৫ মন রসুন পাবেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা। এ ফসলের চাষ বৃদ্ধিসহ বাজার ব্য্যবস্থা স্বাভাবিক রাখলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ফসলটি রপ্তানি করার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলনবিলের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম ও তাড়াশ উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্যমতে এ মৌসুমে বিনাচাষে ও চাষের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে।

শস্য ভাণ্ডারখ্যাত দেশের বৃহত্তর বিল চলনবিলাঞ্চল। আর এ বিলজুড়ে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বিভিন্ন ফসল চাষ। তার মধ্যে অন্যতম মসলা জাতীয় ফসল রসুন। এ এলাকার কৃষকরা বিনা চাষে রসুন আবাদ করে থাকে। বিলের পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা জমিতে নরম কাদামাটিতে বিনা চাষে রসুন রোপণের ধুম পড়ে যায়। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায় রসুনের উপরই নির্ভর করে এ অঞ্চলের কৃষকের জীবন চলা। যে বছর রসুনের বাজার ভাল থাকে তার পরবর্তী বছর আবাদ বেড়ে যায়। চলতি বছর রসুনের ভাল মুল্য পাওয়ায় কৃষকেরা নতুন ভাবে স্বপ্ন এটে বিগত বছরের চেয়ে আবাদ অনেকটাই বেশি করেছেন।

রসুনের বীজ, সার, কীটনাশক, কামলা খরচা ও পানি সেচ সব মিলে অন্য বছরের তুলনায় এবার ব্যয় বেশি হচ্ছে। চাটমোহর উপজেলার ছাইখোলা গ্রামের জয়েন উদ্দিন জানান এক বিঘা জমিতে রসুন চাষ করতে প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রান্তিক কৃষকদের এ টাকা সংগ্রহ করতে হিমশিম থেতে হয়। সরকারি তেমন কোন প্রণোদনা পাওয়া যায় না বা ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রেও জটিলতা অনেক। বাধ্য হয়েই এনজিও ঋণের উপর নির্ভরশীল হতে হয় কৃষকদের।

বেসরকারী ঋণদানকারী সংস্থা এনডিপির নাটোর জোনের জোনাল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম এর সাথে কথা বলে জানা যায় চলতি বছর এনডিপি ৮টি শাখা অফিসের মাধ্যমে প্রায় ৮.০০ (আট) কোটি টাকা রসুন চাষ খাতে ৬ মাস মেয়াদী ঋণ বিতরণ করা হয়, এ ছাড়াও অন্যান্য সংস্থাও বিতরণ করে। রসুনের ফলন ভাল হলে বা বাজার মুল্য ভাল থাকলে কৃষকরা ভালমত ঋণ পরিশোধ করেন এবং তাদের জীবনমানও বৃদ্ধি পায়। ফলন ভাল না হলে বা বাজার মুল্য খারাপ হলে কৃষকদেরও সমস্যা ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানেরও সমস্যা।

সারা দেশে প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে রসুনের চাষ হয় এবং মোট রসুন উৎপাদন হয় প্রায় ৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশের দিনাজপুর, রংপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর ও বরাইগ্রাম, পাবনা জেলার চাটমহর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় রসুন বেশি উৎপাদিত হয়।

দেশের সবচেয়ে বেশি রসুন উৎপাদনকারী জেলা নাটোর। নাটোর জেলা বাংলাদেশের রসুনের চাহিদার শতকরা ৩০ ভাগ পূরণ করে থাকে। এছাড়াও একক জেলা হিসেবে শতকরা ৭০ ভাগ রসুন উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে নাটোর। শুধুমাত্র নাটোর জেলাতেই ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়।

রসুন বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। এটি রান্নার স্বাদ, গন্ধ ও রুচি বৃদ্ধিতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। পুষ্টিমূল্য ও ভেষজ গুণে ভরপুর এই রসুন। রসুনে রয়েছে আমিষ, প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’। রসুন ব্যবহার হয়ে থাকে নানা ধরণের রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও। এছাড়াও রসুন থেকে তৈরি ঔষুধ নানা রোগ যেমন-ফুসফুসের রোগ, আন্ত্রিকরোগ, হুপিংকাশি, কানব্যাথা প্রভৃতিতে ব্যবহৃত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button