
রেহমান মিজান
সাধারণত বজ্র ঝড়ের সময়, আগ্নেয়গিরি/অগ্ন্যুৎপাত কখনো ধূলি ঝড়ের সময় বিশালকার বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ যখন মেঘে থেকে মেঘে আর মেঘ থেকে পৃথিবীর দিকে নির্গত হয় তাকে আমরা বজ্রপাত বলি। বজ্রপাতকে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলের মানুষ “ঠাডা” নামে চিনে। বজ্রপাতের সময় গড়ে ৩০-৫০ লক্ষ ভোল্টের চার্জ ও ঘণ্টায় ২২০ গতিতে ৩০ কিলো-এ্যাম্পেপিয়ারের বিদ্যুৎ নিঃসরণ করে। দেশে প্রতি বছর ৮৪ লক্ষ বজ্রপাত হয় যার ৭৪ শতাংশ হয় এপ্রিল থেকে জুন মাসে। ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৮৭৮ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন এবং মারা যাওয়া জনগোষ্ঠীর ৭২ শতাংশই কৃষক। সব ঘটনা যদি আমলে আনা হয় হয়ত এর প্রকৃত সংখ্যা টা আরো বাড়বে।
প্রতিবছর এই মৃত্যুহার যেভাবে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে সেভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যে সকল কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে হাওর অঞ্চলে বজ্রপাত হয় বেশি। তার কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা হাওর অঞ্চলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকা কে দায়ী করেন। বজ্রপাত জনিত প্রাণহানির সংখ্যা প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে সরকারের তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) মে ২০২৪ এ বজ্রপাত আতঙ্ক ও সাবধানতা” নামক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে এপ্রিল ২০২৪ এ ৩১ জন এবং মেন ২০২৪ এ ৪৩ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন বলে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতি বছর যে হারে মানুষ ও পশু-পাখি মারা যাচ্ছে, ফসল বিনষ্ট হচ্ছে তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা করলে বজ্রপাত কে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে ধরে নেয়া যায়। সৌভাগ্য বশত, বেশিরভাগ বজ্রপাত জনিত মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। নিম্নলিখিত ব্যবস্থা এবং পদক্ষেপ গুলি আমাদের নিরাপদ রাখতে এবং জীবন ও সম্পত্তি র ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ছোটকাল থেকে মুরুব্বিদের কাছ থেকে শুনে এসেছি মেঘে মেঘে যুদ্ধ লাগলে বজ্রপাত হয় আসলে বিষয়টি তা নয়; মূলত: ভূ-পৃষ্ঠের পানি যখন জলীয় বাষ্প হয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে সেই সময় মেঘের নিচের দিকের অপেক্ষাকৃত ভারী অংশের সাথে জলীয়বাষ্পের সংঘর্ষ হয়। তখন অনেক জলকণা হতে ইলেকট্রন নিঃসরণ হয়ে ধনাত্নক চার্জ এ পরিণত এবং অনেক জলকণা সে ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক চার্জে পরিণত হয়। এই দুই বিপরীতমুখী চার্জের কারণে বজ্রপাত প্রক্রিয়া শুরু।
মে ২০২১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশি প্রতিবেদন”কেন বজ্রপাতে এত মৃত্যু?” এ ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে ২,১৬৪ জন মারা গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাত প্রকৃতি প্রদত্ত ঋণাত্মক ও ভয়ংকর ঘটান যাকে আমরা ইচ্ছা করলেই ঠেকাতে পারবো না। তবে প্রতিরোধক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ বিশাল ক্ষয়ক্ষতিকে প্রশমন করা সম্ভব। আমরা চারটি (০১) নিরাপদ স্থানে আশ্রয়গ্রহণ ও নিজেকে নিরাপদ রাখা (০২) ঘরের বাহিরে বজ্রপাত থেকে বেঁচে থাকা কৌশল অবলম্বন (০৩) প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ (০৪) বজ্রপাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবাশুশ্রষা’র মাধ্যমে বজ্রপাত ও তার ক্ষয় ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। যেমন:
১. নিরাপদ স্থানে আশ্রয়গ্রহণ ও নিজেকে নিরাপদ রাখা:
১.১. নিরাপদ আশ্রয় স্থল খোঁজা:আমরা যদি মনে করি আমরা বজ্রপাতের মধ্যে আটকা পড়েছি , তাহলে বিপদ কমানোর প্রথম কাজ হলো একটি শক্ত ঘর, গুহা, পাথর বা কাঠামোর ভিতরে প্রবেশ করতে হবে। বজ্রপাত আসন্ন হলে আশ্রয় খুঁজার জন্য দেরি করা যাবেনা। কারণ আমরা অপেক্ষা করলে বজ্রপাত আমাদের জন্য অপেক্ষা করবেনা। কখনও লম্বা বা ছোট গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবেনা এবং বৈদ্যুতিক লাইনের কাছাকাছি থাকা থেকে এড়িয়ে যেতে হবে কারণ তারা উভয়ই বিদ্যুৎ পরিবাহী এবং গুরুতর আঘাত না হলেও সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আশ্রয়গ্রহণ করার জন্য যা করা যেতে পারে:
● যদি সম্ভব হয়, শক্ত কাঠামোর ঘন বসতি পূর্ণ বিল্ডিং গুলিতে আশ্রয় গ্রহণ করা ভাল যেগুলিতে থান্ডার রড ইন্সটল করা আছে, প্লাম্বিং ও বৈদ্যুতিক সিস্টেম গ্রাউন্ডেড আছে ।
● যদি আপনি শক্ত কাঠামোর ঘর খুঁজে না পান, তাড়াতাড়ি একটি গাড়িতে ঢুকে পড়েন যে গাড়িটির ছাদ ও পাশটা একটি ধাতব পদার্থের। গাড়ির দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখুন। গাড়িটি বজ্রপাতের সংস্পর্শে আসলে , ধাতব বডি আপনার চারপাশে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করবে, আপনার মাধ্যমে নয়। কোনো ধাতব বস্তুর সংস্পর্শ থেকে দুরে থাকুন। নাহলে বজ্রপাত হলে বিদ্যুৎ আপনার শরীরে সঞ্চালিত হবে এবং কোনো প্রকার রেডিও ব্যবহার করবেন না।
● ছোট কাঠামো এড়িয়ে চলতে হবে যেমন খোলা ছাদযুক্ত ঘর এবং ছাতা, যাত্রী ছাউনি ও আশ্রয় গ্রহণের জন্য উপযুক্ত নয়। এই কাঠামো গুলি বজ্রপাত কে আকর্ষণ করবে এবং কোনও সুরক্ষা প্রদান করবে না, তাদের আশেপাশে থাকা আরও বিপজ্জনক করে তুলবে।
● গাছের নিচে দাঁড়ানো খুবই বিপজ্জনক, বজ্রপাত লম্বা বস্তুতে সবার আগে আঘাত করে, এবং আপনি যে গাছটির নিচে দাঁড়িয়েছেন তাতে বজ্রপাত আঘাত করলে, আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন বা গাছ ভেঙ্গে মারাত্মকভাবে আহত হতে পারেন।
১.২ জানালা থেকে দুরে থাকুন: ঘরের সব জানাল বন্ধ রাখুন, পর্দা টাঙিয়ে দিন। নিজেকে জানালা থেকে অপেক্ষাকৃত দুরে রাখুন বিশেষ করে ভিতরের দিকের রুমে অবস্থান করুন। কেননা জানালার মাধ্যমে বজ্রপাত সরাসরি আপনার আঘাত করতে পারে।
১.৩. কোন প্রকার ধাতব বস্তু ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ধরা থেকে দুরে থাকুন: ল্যান্ডফোন ব্যবহার বা ধরা যাবেনা। বজ্রপাতের সময় ল্যান্ডফোন লাইন, ইলেকট্রিক্যাল ওয়ারিশ ও প্ল্যাম্বিং এর মাধ্যমে বিদ্যুতায়িত হয়। তাছাড়া
● বজ্রপাতের সময় কোনো প্রকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ধরবেন না।
● কোন প্রকার যন্ত্রপাতি যেমন টেলিভিশন, মাইক্রো-ওভেন সহ অন্যান্য এর কানেকশন আনফ্লাগ করবেন না। এতকরে আপনার শরীরেরও বজ্রপাত আঘাত করতে পারে।
● কংক্রিটের মেঝেতে শুয়ে থাকবেন না বা কংক্রিটের দেয়ালের সাথে হেলান দেবেন না। বেশিরভাগ কংক্রিটে ভিতরে তার ওয়ারিং থাকে যা বিদ্যুৎ সঞ্চালন করতে পারে।
● বাথটাব বা ঝরনা থেকে দূরে থাকুন এবং ইনডোর সুইমিং পুল এড়িয়ে চলুন।
● গাড়ীতে থাকলে ধাতব ফ্রেমের কোনো অংশ বা গাড়ির কাঁচে স্পর্শ না করার চেষ্টা করুন৷
১.৪. ঘরের ভিতরে অবস্থান করুন: বজ্রপাত শেষ হলেও অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের ভিতরে অবস্থান করুন। বৃষ্টি কমতে শুরু করেছে বলেই বাইরে বেরুবেন না। বজ্রপাত শেষ হয়ে গেলে আবার নতুন করে বজ্রপাত হওয়ার ঝুঁকি এখনও রয়েছে।
২ বাহিরে থাকলে বজ্রপাত বা বজ্রঝড় থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়:
২.১. নিজের ঝুঁকি হ্রাস করুন: বজ্রপাতের খড়ের সময় আপনি যদি একেবারেই নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে আপনার ঝুঁকি কমানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন
● একটি নিম্ন উচ্চতায় আশ্রয় গ্রহণ করুন।. বজ্রপাত উচ্চ উচ্চতায় বস্তু তে আঘাত করার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
● বড় খোলা জায়গা গুলি এড়িয়ে চলুন যেখানে আপনি আপনার আশেপাশের অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে লম্বা, যেমন একটি গল্ফ কোর্স বা ফুটবল মাঠ। বিচ্ছিন্ন বস্তু যেমন গাছ এবং লাইট পোস্ট থেকে দূরে থাকুন।
● অরক্ষিত যানবাহন, যেমন গল্ফ কার্ট, এবং অরক্ষিত কাঠামো থেকে দূরে থাকুন। ঘরের ধাতব কাঠামো এড়িয়ে চলুন।
২.২. পানির সংস্পর্শ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন: যদি আপনি মাছ ধরছেন বা সাঁতার কাটছেন, অবিলম্বে জল থেকে বেরিয়ে আসুন এবং জলাধার থেকে দূরে সরে যান। বজ্রপাতের সময় জলের কাছাকাছি থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাবার বুট বা স্যান্ডেল ব্যবহার করুন।
২.৩. ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকুন: বজ্রপাতের সময় আপনি যদি কোন গ্রুপের সাথে অবস্থান করেন তাহলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকুন। একজন থেকে আর একজনের ৫০ থেকে ১০০ ফিট তাহলে (২৩০.৫ মিটার) দূরত্ব বজায় রাখুন। এটি একজন থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমিয়ে দেবে। প্রতিটি বজ্রপাতের ঘটনার পরে একটি হেডকাউন্ট করুন। এতে করে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে জরুরি সেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।
২.৪. আপনার ব্যাগটা দুরে রাখুন: আপনার বহন করা ব্যাগটিতে (ব্যাক প্যাক/ট্রলি) যদি ধাতব ফ্রেম বা হ্যান্ডেল লাগানো থাকে বজ্রপাতের আঁচ করলেই সাথে ব্যাগটা খুলে রাখুন। আপনি যেখানেই আশ্রয় নিচ্ছেন সেখান থেকে অন্তত ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দূরে রাখুন।
২.৫.নিজেকে রক্ষা করুন।: বজ্রপাতের হবে এমন অনুমিত হলে আপনার পা একসাথে গুটিয়ে বাঁকা করুন, আপনার মাথা আপনার বুকে বা আপনার হাঁটুর মধ্যে আটকে রাখুন এবং আপনার হাত আপনার কান ঢেকে রাখুন বা আপনার হাঁটু র বিপরীতে সমতল করুন।মাটিতে শুয়ে থাকবেন না, কারণ এটি বজ্রপাত কে আরও বড় লক্ষ্য দেয়। আপনার কান ঢেকে রাখুন এবং বজ্রপাত এবং বজ্রপাতের আলো থেকে রক্ষা পেতে আপনার চোখ বন্ধ করুন।
২.৬. সম্ভাব্য বজ্রপাত বা বজ্র ঝড় থেকে সতর্ক থাকুন।: যদি আপনার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায় বা চামড়ায় ঝাঁকুনি অনুভব করেন তখন আপনাকে বুঝতে হবে যে বজ্রপাত আপনাকে খুব শীঘ্রই আঘাত করতে পারে বা আপনার কাছা-কাছি কোথাও আঘাত করেছে। তাছাড়া হালকা ধাতব বস্তুগুলি কম্পিত হতে পারে, এবং আপনি একটি কর্কশ শব্দ শুনতে পারেন।
৩. প্রতিরোধ মুলক কার্যক্রম:
৩.১. আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ : বজ্রপাত বা বজ্র ঝড় থেকে বাঁচার সর্বোত্তম ব্যবস্থা হচ্ছে একে এড়িয়ে চলা। বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট, আবহাওয়া, বিপদাপন্ন তা ও বজ্রপাত প্রবণ এলাকার কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস শুনুন। সরকার বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য পরীক্ষামূলক ভরবে তালগাছ লাগানো শুরু করেছে। যদি রাস্তার ধারে লাগানো তালগাছ মাঠে অবস্থানরত কৃষক দের রক্ষায় কতটা কার্যকর যেটা সেটা সময় বলে দেবে। এছাড়া বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য হাওর অঞ্চলে কংক্রিটের শেল্টার হোম নির্মাণের পাশাপাশি আগাম সতর্কতা দেবার জন্য ৭২৩টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়। সে আগাম সতর্কতা কেন্দ্র থেকে স্থানীয় অধিবাসীদের ৪০ মিনিট আগে মোবাইলে বার্তা পাঠানো হবে। যাতে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে পারে।
৩.২.আকাশের অবস্থার পর্যবেক্ষণ করুন: ঘর থেকে বের হলে আকাশের অবস্থা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন আকাশে কালমেঘ (উঁচু কিউমুলোনিম্বাস মেঘ) আছে কিনা? আপনি যদি প্রথম বজ্রপাতের আগে বুঝতে পারেন তাহলে আপনি সম্ভাব্য খারাপ অবস্থা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবেন।
৩.৩. বজ্রপাত থেকে আপনার দূরত্ব পরিমাপ করুন: যদি সবকিছু ক্লিয়ার থাকে এবং ভালোভাবে বজ্রপাত বা বজ্র ঝড় দৃশ্যমান হয় তখন সাথে সাথে আশ্রয়স্থলের জন্য দৌড় দেওয়া ঠিক হবে না। তখন আপনাকে ৩০ সেকেন্ডের নিয়মটি ব্যবহার করুন: যদি একটি বজ্রপাত এবং এর বজ্রপাতের ফলাফলের মধ্যে সময় ৩০ সেকেন্ড বা তার কম হয় (দূরত্ব ৬ বা ৯.৭ কিমি এর কম) অনতিবিলম্বে আশ্রয় স্থলে যান।
৩.৪. বজ্রপাত থেকে আপনার দূরত্ব পরিমাপ করুন : আপনি যদি এমন একটি এলাকায় থাকেন যেখানে আপনি বজ্রপাতের আশঙ্কা করছেন, তাহলে নিরাপদ আশ্রয়স্থল কোথায় তা জানুন। আপনার সাথে থাকা অন্যদেরও সাথে আপনার পরিকল্পনাগুলি শেয়ার করুন যাতে সবাই জানে জরুরি অবস্থায় কি করতে হবে।
৩.৫. আপদকালীন কীট তৈরি করুন: প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অন্যান্য দুর্যোগে র সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে তাই বিকল্প আলোর উৎস যেমন রিচার্জব্যোল লাইট বা টর্চ লাইট এর ব্যবস্থা রাখুন।
৩.৬. বাসা বাড়ি ও অনন্যা স্থাপনায় থান্ডার রড স্থাপন করুন: আপনি যদি বজ্র-প্রবণ এলাকায় থাকেন, তাহলে একটি বজ্রপাতের রড ইন্সটল করা আপনার পরিবার এবং আপনার সম্পত্তি রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। পেশাদার কাউকে দিয়ে আপনার থান্ডার রড ইন্সটল করা খুবই জরুরি.কেননা ভালোভাবে নাহলে এই রড বজ্রপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।
৪. বজ্রপাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা ও চিকিৎসা:
৪.১. জরুরী সেবা নাম্বারে (৯৯৯)ফোন করুন : বজ্রপাতের কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে তখন অ্যাগ্রিসিভ রিসাকসান দরকার হতে পারে। আপনি যদি আপনার জরুরি সেবায় ডায়াল করতে না পারেন তবে এটি করার জন্য অন্য কাউকে মনোনীত করুন৷
৪.২ নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে দেখুন: বজ্রপাতের আক্রান্ত হওয়া কাউকে সাহায্য করার চেষ্টা করে নিজেকে বিপদে ফেলবেন না। তৎক্ষণাৎ বিপদ কেটে যাওয়া না পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, অথবা আক্রান্ত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। বজ্রপাত একই জায়গায় দুবার আঘাত করতে পারে।
৪.৩: সিপিআর (কার্ডিও পালমোনারী রিসাকসন) করুন: বজ্রপাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বৈদ্যুতিক চার্জ ধারে রাখে না, তাই আপনি অবিলম্বে তাদের স্পর্শ করতে পারেন এবং চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। একেবারে প্রয়োজন না হলে কাপড় সরিয়ে ফেলবেন না। শিকার একটি শিশু হলে শিশু ঈচজ সঞ্চালন করুন এবং প্রাপ্তবয়স্ক শিকারের উপর প্রাপ্তবয়স্ক ঈচজ সঞ্চালন। আক্রান্তকে তার পিঠের উপর শুয়ে দিন এবং মাথাটা গাড়ের চেয়ে কিছুটা নিচে রেখে দিন। পা উঁচু করে ধরুন এবং কোন একটা কিছুর সাপোর্ট দিন।
বজ্রপাত এর ক্ষয় ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি আমাদের কেও সচেতন হবে। বজ্রপাত একটি আকস্মিক ঘটনা, যা প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন। এবং যদি (বজ্রপাত) হয়ে যায় তাহলে অনেকের মৃত্যু হতে পারে। বজ্রপাতের সময় আমরা যতটা সম্ভব রাবার এর জুতা পরুন। রাবার বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় বলে বজ্রপাত সময় রাবারের জুতা বিদ্যুতকে শরীরে প্রবাহিত হতে বাধা প্রদান করে। এ ছাড়াও, ধাতব বস্তু স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন কারণ বজ্রপাত ধাতু র চারপাশে প্রবাহিত হয় এবং এটি স্পর্শ করলে এটি আপনার শরীরে প্রবাহিত করবে। বজ্রপাত মাটির মধ্য দিয়ে কয়েক ফুট ভ্রমণ করতে পারে, তাই নিজেকে লম্বা, বিচ্ছিন্ন বস্তু থেকে দূরে রাখুন। বাণিজ্যিক বজ্রপাত শনাক্ত করণ ডিভাইস, বাসা বাড়ি, অফিস সহ সব ধরনের স্থাপনায় থান্ডার রড লাগাত হবে। নিয়মিত আবহাওয়া সতর্কীকরণ সংবাদ শুনতে হবে, বজ্রপাতের সময় হেডফোন সহ পোর্টেবল ইলেকট্রনিক্স ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।সরকারি ভাবে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি বজ্র নিরোধক স্থাপনের ঘোষণা দিতে হবে। বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা/থান্ডার প্রটেকশন সিস্টেম যুক্ত না থাকলে নতুন কোনো ভবনে র নকশা অনুমোদন করা যাবে না। সেক্ষেত্রে সরকার বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে থান্ডার প্রটেকশন সিস্টেমের সকল পণ্যের শুল্ক মকুফ করলে বিষয়টা আরো বেগবান হবে
রেহমান মিজান
লেখক, কবি, মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মী ঢাকা, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫





