জাতীয়সিরাজগঞ্জ

আজ ৩ নভেম্বর: জেল হত্যা দিবস

ইসমাইল হোসেন: ১৯৭৫ সালের মধ্যরাতে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারের ভেতর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় দেশের চার বরণ্যব্যক্তিত্ব জাতীয় চার নেতাকে। বঙ্গবন্ধুর একান্তসহচর পাকিস্তানি শাসন শোষনের বিরুদ্ধে ২৩ বছরে বঙ্গবন্ধুর আপোসহীন লড়াইয়ের বিশ্বস্থ চার নেতা।

১৯৭১ সালের বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে প্রবাসে গঠিত মুজিব নগর সরকারের চার কান্ডারি। প্রবাসি মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, মুজিব নগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি (উপরাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান  ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও স্বরাষ্ট, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুর্নবাসন এর কৃষি মন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামান।

বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তার ঘোষিত-‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’এই নির্দেশ হৃদয়ে ধারণ করে ৯ মাসের এক কঠিন সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত করার নায়ক লাল সবুজ পতাকার স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের গর্বিত এই জাতীয় চার নেতার আজ প্রয়াণ দিবস।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কালো রাতে সেনাবাহিনীর একটি উশৃঙ্খল অংশ ষড়যন্ত্রী খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্র করে পৃথিবী থেকে নির্মমভাবে সরিয়ে দেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের। স্রষ্টার অপার কৃপায় বিদেশে থাকার জন্য সেদিন বেঁচে যায় বঙ্গবন্ধুর দু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

জাতির জীবনের সেই সংকটে, দু:সময়ে যড়যন্ত্রী মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন অনেকেই। তাদেরও পিছনের জীবন ছিল সংগ্রামী। কিন্ত জাতির পিতার বিদায়ের পর তারা তাদের জীবনের কাছে পরাজিত হয়েছিল। নীতি-নৈতিকতার কাছে পরাজিত হয়ে নিজেদের সারাজীবনের অর্জন মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে শুধু জীবন বাঁচাতে মোশতাকের ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে মন্ত্রিসভায় আসন নিয়েছিল।

কিন্ত সেদিন  চার জাতীয় নেতা মোশতাকের সকল লোভনীয় প্রস্তাবকে দুই পায়ে মাড়িয়ে  ঘৃণাভরে লাথি দিয়ে দূরে নিক্ষেপ করে দেয়। এই জাতীয় নেতারা নিজে এবং নিজেদের পরিবারকে বিপদজ্জক অবস্থার কথা না ভেবে ঘৃণাভরে খুনী মোশতাকের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে প্রমাণ করেছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের আস্থার কথা।  ৭৫ এর ১৫ আগষ্টের সেই দু:সময়ে প্রমাণ করেছিল অনৈতিকার কাছে মাথা নত না করার অনন্য দৃষ্টান্ত। বরণ করে নিয়েছিল কারা নির্যাতন। এবং অবশেষে ৩ নভেম্বর অতীতের মতো আরও একবার এবং পৃথিবীতে জীবনের শেষবার নিজেদের প্রিয় জীবনটা বিলিয়ে দিয়ে প্রমান করে দিয়ে গেল জাতির পিতার শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তাদের আস্থা এবং দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসার কথাকে।

জাতির এই অকুতোভয় নেতৃত্বকে ৩ নভেম্বর খুনীচক্র সকল নীতি নৈতিকতা, আইনকে লঙ্ঘন করে ঢাকায় নাজিমুদ্দীন রোডের সেই সময়ের কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে।  খুনীর হাতে ৩ নভেম্বর শারিরীকভাবে এই চার জাতীয় নেতাকে চলে যেত হলো আমাদের এই নশ্বর পৃথিবী থেকে। প্রিয় স্বদেশ থেকে। কিন্ত তাদের দেখিয়ে দেওয়া আদর্শ এখনও আমাদের উজ্জীবিত  করে দেশ গড়ার পথে।

আজ সেই ৩ নভেম্বর, জাতির জীবনের এক কালোদিন। শোকের এই দিনে সমগ্র জাতি শ্রদ্ধায় মাথানত করে স্মরণ করছে এই বীর নেতৃত্বকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button