
গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে এ বছর ৫৩৫ টি পুজা মন্ডপে দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে । এ উপলক্ষ্যে জেলার ভদ্রঘাট পাল পাড়ায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগরেরা। খড়, কাঠ, সুতা আর মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে তৈরি করছেন প্রতিমা। পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে শিল্পীদের ব্যস্ততা ততটাই বাড়ছে। দিলীপ পাল জানান প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম ও চাহিদা বাড়লেও বাড়েনি প্রতিমার দাম।
হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষোদের সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সভাপতি অশোক ব্যনার্জী জানান আগামী পহেলা অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজা র মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবাবের দুর্গোৎসব। এবছর দেবী দুর্গা আসছেন গজে (হাতি) চড়ে যাবেন নৌকায় চড়ে। দেবীর আগমনে বিশ্ব হবে শান্তিময়, অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে উদয় হবে শুভ শক্তির এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। ইতিমধ্যেই কোন কোন এলাকায় প্রতিমাতে রং তুলির কাজ চলছে ।
জেলার কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, পালপাড়ায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা । যেন দম ফেলার সময় নেই প্রতিমা তৈরির শিল্পীদের। পুরুষদের পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজে সহায়তা করছে বাড়ীর নারী ও শিশুরা । কেউ কেউ খড়, কাঠ, সুতা দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করছেন কেউবা নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রতিমা। প্রতিমার কাঠামো তৈরি শেষে এখন চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ। এর পর প্রতিমা শুকানোর পর শুরু হবে প্রতিমায় রঙের কাজ। ভদ্রঘাট পালপাড়ার প্রতিমা তৈরির কারিগর শ্রীকান্ত পাল জানান,আগের মত মানুষ মাটির তৈরী জিনিষপত্র ব্যাবহার না করায় আমাদের প্রায় সারা বছরই অলস সময় কাটাতে হয় । তবে দুর্গাপূজার সময় প্রতিমা তৈরি করে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে কোন মতে সারা বছর সংসার চালাই। তিনি জানান করোনার কারণে গত দুই বছর তেমন ব্যাবসা হয়নি । আবার এ বছর প্রতিমা তৈরীর উপকরণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিন্তু ক্রেতারা প্রতিমার দাম বাড়াচ্ছে না। এতে আমাদের যে টাকা আয় হওয়ার কথা তা আর হচ্ছে না। প্রতিমা কারিগরেরা জানান, এবছর এখানে দুই শতাধিক ২০০ প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এই প্রতিমাগুলো পাবনা, বগুড়া, নাটোর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাবে।এখানে প্রতিটি প্রতিমা ৩০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষোদের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. সুকুমার চন্দ্র দাস জানান এবছর জেলায় ৫৩৫ টি মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে । গত দুবছর করোনার কারনে জাকজমকভাবে পুজা উদযাপন করা যায়নি । তবে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে পুজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।





