সদরসিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো চর উৎসব অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: দেশে প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চর উৎসব’। যমুনা নদীতে নৌভ্রমণ, চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে পর্যটনের আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সমবায় ও সামাজিক সংগঠন ‘সমধারা’র আয়োজনে এবং সিরাজগঞ্জের পর্যটন উদ্যোগ ‘স্মার্ট ট্যুরিজম’-এর ইভেন্ট পার্টনারশিপে উৎসবে শহরের বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। বিশেষ করে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
চরাঞ্চলের প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবনযাত্রা, লোকসংস্কৃতি ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় উৎসবের আয়োজন। এতে ছিল যমুনা নদীতে নৌভ্রমণ, ঐতিহ্যবাহী খাবার পিটুলি, বাউলসংগীত ও ঘুড়ি উৎসব। আকাশে ওড়ে নানা রঙের ঘুড়ি। শিশুদের মধ্যে ঘুড়ি ও খাবার বিতরণ করা হয়। অতিথিদের কলাপাতায় পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পিটুলি।
উৎসবের সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয় সিরাজগঞ্জের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য গামছা। খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে সাজসজ্জার বিভিন্ন অনুষঙ্গে তুলে ধরা হয় গ্রামীণ জনপদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। চরের মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয় উৎসবের বিভিন্ন আয়োজন।
আয়োজকদের মতে, যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর, বিস্তীর্ণ বালুচর ও চরের মানুষের জীবনযাত্রা পর্যটকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির সম্ভাবনা রাখে। চরাঞ্চলকে ভিলেজ ট্যুরিজমের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করা এবং বিচ্ছিন্ন জনপদের মানুষের সঙ্গে শহরের বাসিন্দাদের যোগাযোগ বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সমধারার সভাপতি ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল সাফি বলেন, চরের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা। যমুনা নদীতে নৌভ্রমণ এবং চরাঞ্চলের প্রকৃতিকে ঘিরে পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। চর উৎসবের মধ্য দিয়ে চরের এসব সম্ভাবনা সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, চরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে স্থানীয় খাবার, সাজসজ্জা ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজনটি করা হয়েছে, যাতে শহরের মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম চরের জীবন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও ভিলেজ ট্যুরিজমের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমধারার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতীক মাহমুদ বলেন, সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো চর উৎসবের আয়োজন করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চরের মানুষের জীবনযাপন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। চরের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি এখানকার মানুষের সঙ্গে অতিথিদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে চরাঞ্চল সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়বে এবং চরের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশা করেন।
স্মার্ট ট্যুরিজমের প্রতিষ্ঠাতা মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, সিরাজগঞ্জ তথা চরাঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে এ আয়োজন করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। দেশের পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে চরাঞ্চলকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে চর উৎসব নতুন সংযোজন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও আয়োজনের মাধ্যমে ভিলেজ ট্যুরিজমকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
চর উৎসবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বাবু, লেখক ও সংগঠক শ্যামলী খান, কবি শামীমা আফরোজ হ্যাপি, উদ্যোক্তা শামীমা সুলতানা সাথী, সমধারার কোষাধ্যক্ষ বাবলা বাশার, ব্যবসায়ী এনামুল প্রবালসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যমুনা নদীকেন্দ্রিক নৌভ্রমণ ও চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শহরের মানুষের সঙ্গে চরের বাসিন্দাদের যোগাযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে ভিলেজ ট্যুরিজমের বিকাশ ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button